Shayari in bengali by Gambhirnath | গম্ভীরনাথের ২০টি আধ্যাত্মিক বাণী।

শ্রীমৎ গম্ভীরনাথ ভারতের কাশ্মীর রাজ্যে একটি ধনী পরিবারের জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তার আধ্যাত্মিক ধ্যান ধারণার প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন। তিনি একজন হিন্দু সাধক ও নাতপন্থী শৈব সদগুরু। এর সঙ্গে তিনি মানুষদেরকে যোগব্যায়ামও শেখাতেন। অবশেষে ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ভারতের কাশ্মীর রাজ্যে মারা যান। এনার কিছু উপদেশ নিচে উল্লেখ করা হলো।

গম্ভীরনাথের ২০টি আধ্যাত্মিক বাণী।
Shayari in bengali by Gambhirnath
Photo by pexels.com

“মানুষের সদসৎ কার্যানুসারে উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট জন্ম হয়ে থাকে। ভগবান জীবের কর্মানুসারে ফলদান করে থাকেন, তিনি নিয়মের লঙ্ঘন করেন না।…..যে আন্তরিক অনুতাপ করে এবং সৎকার্যাদি করে, তিনি তাকে ক্ষমা করেন।” 

 “ভগবানের নাম, অর্থ না জেনে জপ করলেও ফলের কোনো হানি হয় না।…….. মনে মনে জপ করবে। সাধনের শ্রেষ্ঠ সময় প্রাতঃ ও সন্ধ্যাকাল।….. যেমন ফুরসৎ হয় জপ করবে। নামজপ করতে করতে ক্রমে চিত্তশুদ্ধ হবে, শান্তি আসবে—তা-ই ভগবান লাভ।”

“জপ, ধ্যান, জ্ঞান, ভক্তি, নিষ্কাম কর্মযোগ প্রভৃতি সকল সাধনপন্থারই চরম লক্ষ্য পরমতত্ত্বের অপরোক্ষ অনুভূতি দ্বারা সর্বপ্রকার বন্ধন ও তাপ থেকে ঐকান্তিক ও আত্যন্তিক মুক্তি লাভ।”

“যে রূপ তোমার ভাল লাগে ধ্যান করবে। হৃদয়ে ধ্যান করবে। হৃদয়ে সমস্ত দেবতার দর্শন হয়। ঈশ্বর সাকার ও নিরাকার দু-ই। যে যেমন ভাবে উপাসনা করে, তার কাছে তেমন ভাবেই তিনি প্রকাশিত হন। সাকারেই সহজে নিষ্ঠা আসে। চরণের ধ্যানই উৎকৃষ্ট। চরণ থেকে ধ্যান শুরু করতে হয়।”

” ‘সর্বভূতে ঈশ্বর আছেন’ এই মনে করে সবাইকে সু-নজরে দেখা ভালো। জ্ঞানচক্ষু খুলে গেলে কু-দৃষ্টি নষ্ট হয়ে যায়।”

“যার যা খাদ্য, সে তা দেবভোগে দিতে পারো।”

“সঙ্কল্প বিকল্পই মন। মনের স্বভাবই চঞ্চলতা। একদিনে চঞ্চলতা যায় না।…..নাম করার সময় মন নানাদিকে বিক্ষিপ্ত হলেও নামের ফল নষ্ট হয় না। (কর্তব্যের প্রয়োজনে) ক্ষতি না হলে চঞ্চলতা সত্ত্বেও নাম করবে।”

“নামের দ্বারা মন স্থির হয়ে যায়। নাম থেকে ক্রমে ক্রমে সব এসে যাবে। শুচি অশুচি সকল অবস্থায় নাম করা যায়, ভগবানের নাম শ্রবণ ও কীর্তন করবে। আসন করে জপ করো, নিজেই প্রাণায়াম হয়ে যাবে।”

” ‘আমার, আমার’ করেই লোকে মায়াজালে বদ্ধ হয়ে পড়ে। জ্ঞানী ওই মায়াজালে বদ্ধ হন না। তাঁরা নিরাসক্তি দ্বারা মুক্ত হন। তাঁরা জানেন যে, সংসারে কেউ কারো আপনার নয়, কিন্তু সকলেই ভগবানের সন্তান।…..তাঁরা সংসারের যাবতীয় কর্তব্য নির্লিপ্ত ভাবে করে থাকেন।”

“সমদর্শী হওয়া উচিত, কিন্তু সমবতী (সমব্যবহারী) হওয়া উচিত নয়।”

” ‘যদি অপরে দুনীর্তিপরায়ণ ও স্বেচ্ছাচারী হয়, তবু তাতে জ্ঞানী ব্যক্তির মনে কোনো বিকার উপস্থিত হয় না। তিনি জানেন যে, পূর্বজন্মের সংস্কার থেকেই লোকের প্রকৃতি গঠিত হয় এবং ওই প্রকৃতির বশেই সে ওইরূপ কার্য করতে বাধ্য হয়।”

“আত্ম বিচার ব্যতীত মন সাফ হয় না, সংশয় থেকেই যায়। চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো কোনো সময় দু-একটা খারাপ সঙ্কল্প মনে উঠতে পারে, কিন্তু কুড়িটি ভালোর মধ্যে যদি একটি খারাপ ওঠে তাতে তেমন ক্ষতি হয় না। ভগবান তাকেও গ্রহণ করে থাকেন।”

“বিচার করবে, শাস্ত্র ও মহাপুরুষের বাণী মিলিয়ে যার যা সংস্কার (তদনুযায়ী চলবে)।.কোনো ভয় পাবে না। বিচারে যে কাজ খারাপ বলে বোধ হবে, করবে না।”

“ভগবান জ্যোতির্ময় ও অখণ্ড। তিনি সর্বব্যাপী। এমন একটি স্থান নেই যেখানে তিনি নেই। যেমন একটি ঘটি সমুদ্রের জলে ডুবিয়ে রাখলে তার ভেতরেও জল, বাইরেও জল, ঠিক সেইরূপ (জলের মতো তিনি আছেন)। তিনি পরিমিত জ্যোতিঃরূপে আমাদের ভেতরে আছেন এবং বাইরে তো আছেনই। জড় ও চিন্ময় প্রতিটি প্রকাশের মধ্যেই তিনি জ্যোতিঃরূপে বিদ্যমান। সকলেই তাঁর অংশ। সবই পরমাত্মস্বরূপ।”

” ‘আমিত্ব’ রেখো না। অহং বলে (আসলে) কিছু নেই-ই, জগৎ স্বপ্নবৎ, সবই পরমাত্মস্বরূপ। অভেদ দর্শনই জ্ঞান। ভেদ দর্শনই অজ্ঞান।”

“ধর্মনীতি ও সমাজনীতির মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা কঠিন, – ধর্মের জন্যই সমাজ, আবার সমাজের জন্যই ধর্ম।”

“কী হয়েছে, কী হচ্ছে, কী হবে, কোনো কিছু হবে কি হবে না—এই সব নিয়ে চিন্তা-ভাবনার কোনোই প্রয়োজন নেই। বিবেচনায় যা ঠিক মনে হবে সেই ভাবেই যা করার করবে। লৌকিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের সকল কর্মই কর্তব্য-বোধে নিষ্কামভাবে সম্পাদন করা উচিত।”

“একবারেই কারোর অন্তরঙ্গা ভক্তি হতে পারে না। যে পর্যন্ত অন্তরঙ্গা ভক্তি না জন্মায়, সেই অবধি বহিরঙ্গায় শ্রদ্ধা রাখবে। স্বাত্ত্বিকী ভক্তির অনুশীলনে ক্রমে ক্রমে অন্তরঙ্গা ভক্তি লাভ হয়ে থাকে।”

“যে অবস্থায় দেহপাত হয়, সেই অবস্থা থেকে জীব পুনরায় উচ্চতর অবস্থার দিকে অগ্রসর হয়।….এ জন্মে সদ কার্যের যে যেমন অভ্যাস করে থাকে, মৃত্যুকালে তার সেই চিন্তাই প্রবল হয় এবং পরজন্মে সেইরূপ সংস্কার নিয়েই তাকে জন্মগ্রহণ করতে হয়। যে এ জন্মে ভগবান-এর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও প্রেমসাধনা করে সে পরজন্মের প্রথম থেকেই ওই সৎ-প্রকৃতি ও সাধুমতি গতি লাভ করে থাকে।”

“যখনই যা করো ভগবানকে অর্পণ করবে। জপ, তপ, দান, ধ্যান, সেবা, পূণ্য কার্যাদি, তাহলেই অহংকার নষ্ট হয়ে যাবে।….. আমার আমার’ ভাবের নামই অহংকার, এবং এটিই বন্ধনের মূল। এই ‘আমিত্ব’কে লয় করতে হবে। লোকোত্তর মহাপুরুষগণের কথা আলাদা, তাঁরা সমাজবিধির অতীত। তাঁরা প্রচলিত রীতিনীতির বহির্ভূত ব্যবহার কখনো কখনো করতে পারেন।….. যারা সমাজের অধীন, সমাজের সহযোগিতা ব্যতীত যাদের জীবনধারণই কঠিন, তাদের পক্ষে সমাজবিধি, অমান্য করা খুবই অসঙ্গত”

Leave a Reply