shayari in bengali By Radharaman charandas | রাধারমণ চরণদাসের ১৪টি আধ্যাত্বমূলক বাণী

রাধারমণ চরণদাস বাবাজী ১৮৫৩ সালের এপ্রিল মাসে বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ইনি বারহা বাবাজি ও বড় বাবাজি নামেও পরিচিত ছিলেন। চৈতন্য দাসের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর তিনি সন্ন্যাসী দীক্ষা অর্জন করেছিলেন। ইনি একজন অচিন্ত্য ভেদাভেদবাদী গৌড়ীয় বৈষ্ণব সদগুরু । অবশেষে ইনি ১৯০৮ সালে মারা যান। এনার কয়েকটি বাংলা বাণী (bengali quotes) নিচে উল্লেখ করা হলো।-

Photo by pexels.com

“ইচ্ছাময় যার দ্বারা যে কাজ করাবার ইচ্ছা করেন, কাজে প্রবৃত্ত করাবার সঙ্গে সঙ্গেই তার হৃদয়ে সেইরূপ শক্তির সঞ্চার করে থাকেন।…..তিনি অন্তর্যামী ।…ভগবৎশক্তির খেলা কারোর বোধগম্য হতে পারে না।”

“সংসার সুখ-দুঃখ দুয়েরই আবাসনস্থল। ব্যবহার দোষে সময়ে সুখ ও দুঃখে পরিণত হয়। সংসারশ্রম ভগবৎ প্রাপ্তির অন্তরায় নয়, নিজ নিজ আচরণেই ভগবৎ প্রাপ্তির বাধক ও সাধক হয়।”

“শ্রীভগবান স্বতন্ত্র।… তিনি গুণাতীত অথচ গুণময়। তিনি জ্ঞানের বশীভূত নন, কারণ তিনি জ্ঞানাতীত সচ্চিদানন্দময়। তিনি একমাত্র প্রেমভক্তির অধীন।….প্রভু ভাবগ্রাহী।…যার যেরূপ প্রাণের ভাব তাকে ঠিক সেই রকম ভাবেই কৃপা করে থাকেন।”

“জীব অংশ তিনি পূর্ণ, জীব দাস তিনি প্রভু, জীব অনু তিনি মহান। জীবের কোনো স্বতন্ত্র ক্ষমতা নেই। তিনি যা করাবেন ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক জীব তাই করছে।”

“ভগবানের নামকীর্তনে বা শ্রবণেই শ্রীভগবানের স্মরণ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তাতেই মৃত্যুভয় নির্বাপিত হয়ে থাকে।”

“সাত্ত্বিকভাবে যিনি যাঁকেই ভজনা করুন না কেন তিনিই বৈষ্ণব। কেবল, বেশের প্রতি লক্ষ্য করে লোক চিনতে যেও না। মহাপুরুষগণ কে কোন্ বেশে কোন্ ভাবে থাকেন, কেউ তা স্থির করতে পারেন না।”

“নাম সর্বশক্তিমান। নামের অসাধ্য কিছু নেই। ‘নামের’ কাছে কিছু চাইবে না, ‘নাম’ যা দিতে পারে, মানুষ তা চাইতে জানে না। একাগ্রতা আসুক বা না আসুক নামকরে যাও।”

“প্ৰভু মঙ্গলময়, এই কথাটি সর্বদা মনে রাখতে পারলে, কোনো ‘বিপদ’ হতে পারে না। বিপদ তো আসবেই, বিপদ না আসলে পরীক্ষার স্থান কোথায় ?”

“নিজে সাধন ভজন করতে গিয়েও কায়মনোবাক্যে কারোর কোনোরূপ উদ্বেগের কারণ না হয়, এটি সর্বদা স্মরণ রাখা দরকার।”

“তিনি নিরপেক্ষ, সর্বজীবে তাঁর সমান দয়া। তাঁর আপন-পর কেউ নেই।”

shayari in bengali By Radharaman charandas

“কায়মনোবাক্যে হিংসাদ্বেষ পরিত্যাগ করবে। যথালাভে সন্তুষ্ট থাকবে। ভালোমন্দ যাবতীয় বস্তু জগতে বর্তমান আছে, সব বস্তু সবার জন্য নয়। সকল বস্তুরই অধিকার ভেদ রয়েছে।”

“প্রভু আমায় যে কার্যে নিযুক্ত করেছেন, অমি প্রাণপণে তাই করবো। যদি কোনো বিষয় আমি বুঝতে না পারি, তবে অন্তর্যামী প্রভুকে জানালে নিশ্চয়ই তিনি বুঝিয়ে দেবেন। —এইরূপে (ভাবসহ) সংসার করলে কেউ সংসারে যতই লিপ্ত হয়ে থাক না কেন, মায়া তাকে শাস্তি দিতে পারেন না।”

“ধর্ম নিয়ে……যার যেরূপ রুচি তদনুসারে অগ্রসর হলে, যেসময় যেটুকু দরকার প্রভু আপনিই মিলিয়ে দেবেন।”

“অনুরাগ গতিশীল। এই অনুরাগ সতেই হোক অসতেই হোক অনুরাগী ব্যক্তিকে ঊর্ধগামী করবেই করবে।… নিজ দোষ সদাসর্বদা স্মরণ রাখা উচিত। পরচর্চা, পরনিন্দা, বিলাসিতা, অতি-(ভাজন প্রভৃতি বর্জন করে শ্রবণ কীর্তনাদি নতুবা ভক্তির যাজন করবে।….সব কিছুকে ভুলে শ্রীভগবানকে ভালোবাসতে শেখো…… পরমানন্দসাগরে ডুবে যাও। তাতেই হবে মনুষ্যজীবনের চরম এবং পরম সার্থকতা।”

Leave a Reply